খেলা
ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবি করলেন কামিন্সও
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৪:৪৭ ভোর
এবার পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাশে দাঁড়ালেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কারাগারে থাকা ৭৩ বছর বয়সী ইমরান যেন যথাযথ চিকিৎসা পান এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন — সেই দাবি তুলেছেন তিনি। এখনো খেলছেন এমন অধিনায়কদের মধ্যে কামিন্সই প্রথম, যিনি ইমরানের জন্য সরাসরি কথা বললেন।
বিশ্বকাপজয়ী এই পাকিস্তানি অধিনায়ক কারাগারে আছেন তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। গত ২৪ আগস্ট ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক একযোগে একটি চিঠি লেখেন, যেখানে তাঁর চিকিৎসা ও প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। চিঠিটির প্রাপক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেটিকেই সমর্থন জানিয়েছেন কামিন্স।
স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছেন মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালিস্টার কুক, মাইক গ্যাটিং, সুনীল গাভাস্কার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, দিলীপ ভেংসরকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইটের মতো কিংবদন্তিরা। রয়েছেন নারী ক্রিকেটের কিংবদন্তি বেলিন্ডা ক্লার্ক ও অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েলও।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ‘দ্য গ্রেড ক্রিকেটার’ শোতে চিঠি লেখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন গ্রেগ চ্যাপেল। তিনি বলেন, ‘ইমরানের বয়স এখন ৭৩ বছর। ছয় বছর আগে পাকিস্তানে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখনো তিনি ছিলেন শক্ত–সামর্থ। এখন আর তেমনটা নেই। তাঁর ডান চোখে নাকি সমস্যা দেখা দিয়েছে…তিনি কষ্টে আছেন। তিন বছর ধরে একা আছেন।’
চ্যাপেল আরও বলেন, ‘আমি জানি না, কীভাবে কেউ এটা সামলায়। শারীরিক ও মানসিকভাবে ইমরান আমার বিপক্ষে খেলা অন্য যেকোনো ক্রিকেটারের চেয়ে শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ একাকিত্ব কীভাবে সামলাতে হয়, আমি জানি না। আমার মনে হয় না, তাঁকে বই পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মোটামুটি তাঁকে সেখানে বসে থাকতে হয় এবং নিজেকেই গোসল করতে হয়। আর বেশির ভাগ সময় তিনি অন্ধকারের মধ্যে থাকেন। এটা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। আর আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে শারীরিক স্বাস্থ্যও খারাপ হতে থাকবে। তাঁর নিজের বা তাঁর পরিবারের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নেই।’
এক্সে এই ভিডিও শেয়ার করে কামিন্স লিখেছেন, ‘গ্রেগ চ্যাপেল এবং অন্য সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের সঙ্গে আমিও আমার সমর্থন জানাচ্ছি। আমি আশা করি, আদালতের নির্দেশে যে চিকিৎসাসেবার কথা বলা হয়েছে, সেটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎও অব্যাহত থাকবে। আমি আশা করি, ইমরান খানের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হবে, যে মর্যাদা প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য।’
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/sports/cricket/dqxly7xq34
বিষয়:: ক্রিকেট · ইমরান খান · কামিন্স
https://www.news.rayenda.com/bn/sports/3uuw4n