খেলা
জাদেজার ‘নো বল’ বদভ্যাসের চিকিৎসায় টেস্টে ফ্রি হিট চালুর পরামর্শ
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ সকাল
‘নো বল’ সাধারণত পেসারদেরই বেশি হয়। অথচ গত পাঁচ বছরে রবীন্দ্র জাদেজার হিসাব দেখে চমকে উঠতে পারেন পেসাররাও।
কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে এই ভারতীয় স্পিনারের নো বল ৩টি; দ্বিতীয় ইনিংসে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১টি। এটুকু শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ২০২১ সাল থেকে গোটা হিসাব মেলালে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৮৮ — সেটিই চমকে দেওয়ার মতো।
২০২১ সাল থেকে আর কোনো স্পিনারের এত নো বল নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নো বল করা পাকিস্তানের নোমান আলীর ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৪০। জাদেজা ও নোমান দুজনেই বাঁহাতি স্পিনার।
সিরিজের প্রথম টেস্টে গলে তাঁর নো বল ছিল চারটি — দুই ইনিংসেই দুটি করে। এর একটিতে আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান শ্রীলঙ্কার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। তবে ‘ওভারস্টেপিং’য়ের সমস্যা কেবল জাদেজার একার নয়, গোটা ভারতীয় বোলিং আক্রমণেরই। চলমান কলম্বো টেস্টে ভারত এ পর্যন্ত ১২টি নো বল করেছে, যার ৭টিই অফ স্পিনার সারাংশ জৈনের।
২০২০ সালের শেষ দিকে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ থেকে নো বল ডাকার দায়িত্ব দেওয়া হয় টিভি আম্পায়ারদের। তখন থেকেই স্পষ্ট হতে শুরু করে জাদেজার সমস্যাটি। সেই পরিবর্তনের পর কাগিসো রাবাদা, বেন স্টোকস ও যশপ্রীত বুমরা ছাড়া আর কোনো বোলার তাঁর চেয়ে বেশি নো বল করেননি — তিনজনই পেসার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, জাদেজার ক্যারিয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করলে পরিসংখ্যানটি আরও চোখে পড়ে। ২০১২ সালে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে টিভি আম্পায়ার দিয়ে নো বল দেখার নিয়ম চালুর আগপর্যন্ত তিনি করেছিলেন মাত্র ১৮টি নো বল। আর এরপর করেছেন ৮৯টি।
এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। মাঝেমধ্যে এটি আসলেই উদ্বেগের বিষয়। তবে বোলার যখন নিজের সর্বোচ্চ নিংড়ে দেন এবং এমন পরিস্থিতিতে উইকেট পান, যখন উইকেট পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তাঁর মধ্যে একটু বেশি জোরে বল করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না।’
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘জাদেজা ও জৈনের সঙ্গে ল্যান্ডিং পয়েন্ট বা ক্রিজ ছাড়ার বিষয়গুলো নিয়ে প্রচুর কাজ করা হয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো নির্দিষ্ট বলে বাড়তি জোর প্রয়োগ করতে গিয়ে তারা লাইন ছাড়িয়ে (ক্রিজের বাইরে চলে) যায়।’
ভারতের হয়ে ২ টেস্ট ও ৮ ওয়ানডে খেলা সাবেক এই লেগ স্পিনার এরপর বাতলে দিয়েছেন অদ্ভুত এক পথ। তাঁর পরামর্শ, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির মতো টেস্টেও চালু হোক ফ্রি হিটের নিয়ম, ‘ফ্রি হিট থাকলে নিশ্চিতভাবেই নো বল কমে যাবে। কোনো দলই নো বল করে অতিরিক্ত বল ও রান উপহার দিতে চাইবে না।’
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/sports/cricket/dglpowwkvp
বিষয়:: ক্রিকেট · ভারত · জাদেজা
https://www.news.rayenda.com/bn/sports/8hwvu7