আন্তর্জাতিক
ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত ইউসুফের পাঠানো টাকায় চলত পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৭ আগস্ট ২০২৬, ৩:৪১ বিকেল
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত মো. ইউসুফ (৪৪) ছিলেন বাংলাদেশে তাঁর পরিবারের মূল অর্থ জোগানদাতা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার মধ্যরাতের এই হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর একই ঘাতক ব্রঙ্কসের একটি মুদিদোকানে এক ক্রেতাকেও খুন করেন।
পুলিশের ভাষ্য, ব্রাউনসভিলের রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ দোকানে কাজ করার সময় বন্দুকধারী গুলি করে হত্যা করে ইউসুফকে। হামলায় আহত হন তাঁর ৩৯ বছর বয়সী এক সহকর্মীও; ডান পায়ে গুলি লাগলেও তিনি বেঁচে গেছেন। রেস্তোরাঁর সহ-স্বত্বাধিকারী রাসেল বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইউসুফ শুধু আমাদের কর্মী ছিলেন না। তিনি আমাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলেন।’
তিনি আরও জানান, সচ্ছল পরিবারের সন্তান ছিলেন না ইউসুফ; বরং এসেছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র একটি পরিবার থেকে, আর তিনিই ছিলেন পুরো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর চলে যাওয়া ওই পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। উপার্জিত টাকা দেশে পাঠাতেন তিনি, আর সেই টাকাতেই চলতেন তাঁর স্ত্রী, ৩ ও ১২ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং বৃদ্ধ বাবা-মা।
ঘটনার সময় রেস্তোরাঁয় ছিলেন না রাসেল; পরে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে বিষয়টি জানতে পারেন। হামলার সময় রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল, ভেতরে কোনো ক্রেতাও ছিলেন না। তাঁর ধারণা, ভুলবশত কর্মীদের যাতায়াতের দরজাটি খোলা থাকায় খুনি ভেতরে ঢুকতে পেরেছিল।
রাসেল জানান, কোনো কথা না বলেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গুলি চালায় বন্দুকধারী; প্রথমে লক্ষ্য করে তাঁর বেঁচে যাওয়া সহকর্মীকে। তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারীকে পিস্তল বের করতে দেখে আমার ওই সহকর্মী লাফ দিয়েছিলেন। লাফ দেওয়ার কারণেই গুলিটি এসে তাঁর পায়ে লাগে। তিনি যদি লাফ না দিতেন, তবে গুলিটি হয়তো তাঁর বুকে লাগত। তিনিও হয়তো মারা যেতেন।’
ইউসুফ তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্যাশ কাউন্টারের কাছে, সেখান থেকে পালানোর পথ ছিল না। রাসেলের ভাষায়, ‘ও সেখানে আটকে পড়েছিল। বন্দুকধারী সরাসরি ওর মাথায় গুলি করে।’
পুলিশের ধারণা, ডাকাতির উদ্দেশ্যেই রেস্তোরাঁয় ঢুকেছিল খুনি। তবে রাসেল জানান, ক্যাশ থেকে কোনো টাকা খোয়া যায়নি। ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সহকর্মীকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি; জানান, গুলি লাগার পর ওই কর্মী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
মঙ্গলবার ৩১ বছর বয়সী সন্দেহভাজন জেসাস অ্যাকোস্তার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে পুলিশ, তাঁকে খুঁজে পেতে জনসাধারণের সহায়তাও চেয়েছে। রাসেল বলেন, ‘আমাদের আশপাশে কোনো সাবওয়ে (পাতাল রেলস্টেশন) নেই। ফলে এখানে সচরাচর অচেনা কোনো নতুন ক্রেতা আসে না। যে ব্যক্তি গুলি করেছে, তাকে আমরা আগে কখনো দেখিনি।’
পুলিশ জানিয়েছে, ইউসুফকে হত্যার দুই দিন পর মঙ্গলবার প্রথম প্রহর সোয়া ১২টার দিকে মট হ্যাভেনের ওয়ালটন অ্যাভিনিউয়ের কাছে একটি দোকানে ৩৩ বছর বয়সী এক ক্রেতার বুকে গুলি করেন অ্যাকোস্তা। এরপর ক্যাশ রেজিস্টার থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। গুলিবিদ্ধ ওই ক্রেতা পরে লিঙ্কন হাসপাতালে মারা যান।
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/bangladesh/9hm0skcb76
বিষয়:: প্রবাসী · যুক্তরাষ্ট্র · নিউইয়র্ক
https://www.news.rayenda.com/bn/international/bpe4ff