আন্তর্জাতিক
বিলীন গ্রামের পর গ্রাম, ভিডিওতে দেখা গেল নেপালের বিপর্যয়
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৭ আগস্ট ২০২৬, ৬:০৪ সন্ধ্যা
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা হয়েছে। বুধবারের এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৮৯ জন, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৯০০ মানুষ।
হিমবাহ ধসে পড়ার পর চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া লেন্দে নদীতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ তীব্র গতিতে নামতে শুরু করলেই বিপর্যয়ের সূত্রপাত।
বন্যার প্রবল স্রোত আঘাত হানে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের শহর-গ্রামগুলোতে। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র।
উদ্ধার অভিযানের সময় আকাশ থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে ফুটে উঠেছে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা। একসময়ের প্রাণবন্ত গ্রামগুলোর ঘরবাড়ি এখন কাদায় মাখামাখি।
উপদ্রুত এলাকা থেকে আকাশপথে মানুষ সরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
রেডক্রসের (আইএফআরসি) নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, বন্যায় কিছু গ্রাম ও ব্যস্ততম বাজার এলাকা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ৩৮৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। নিখোঁজদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতের নাগরিক। দেশটির পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের পর্যটকও।
অন্যদিকে তিব্বত সীমান্তের জিরং শহরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ পাঁচ শতাধিক — জানিয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যম। তিব্বত অংশের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কাদার বিশাল এক ঢেউ আছড়ে পড়ছে বহুতল ভবনের ওপর, তোড়ে খেলনার মতো ভেসে যাচ্ছে গাড়ি ও বাস।
বন্যার পানি বহুতল ভবনের নিচতলা পর্যন্ত ডুবিয়ে দিয়েছে। বুকসমান কাদা ভেঙে বেঁচে যাওয়া মানুষদের খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা।
এই বন্যার প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও। উত্তর প্রদেশ ও বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় বন্যা-সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধস নিয়মিত ঘটনা। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে।
এদিকে ওই এলাকায় নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের (ইসিমোড) জলবায়ুঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিয়াংগং ঝাং এই সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জানান, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী নদীর উজানে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ আটকে রয়েছে, যা থেকে আরেক দফা বন্যা দেখা দিতে পারে।
আটকে থাকা পানি হঠাৎ ধেয়ে এলে ভাটির অঞ্চলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাই অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/world/asia/5iz4gh3l7b
বিষয়:: নেপাল · বন্যা · উদ্ধার
https://www.news.rayenda.com/bn/international/c2yw37