রায়েন্দা নিউজ

news.rayenda.com · ছাপার তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্য

সুচ না ফুটিয়েই রক্তের গ্লুকোজ মাপে সিজিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৬ আগস্ট ২০২৬, ২:৪৬ দুপুর

সুচ না ফুটিয়েই রক্তের গ্লুকোজ মাপে সিজিএম
ছবি: প্রথম আলো

কনটিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং ডিভাইস (সিজিএম) ছোট্ট একটি প্যাঁচের মতো যন্ত্র, ত্বকে লাগিয়ে রাখলে যা ২৪ ঘণ্টা ধরে রক্তের গ্লুকোজের ওঠানামা রেকর্ড করে। বাংলাদেশেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

ডায়াবেটিসের রোগীদের সাধারণত পরামর্শ দেওয়া হয়, বাড়িতে মাঝেমধ্যে গ্লুকোমিটারে নিজেই রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করে নিতে — যাতে সুগারের ওঠানামা নজরে রাখা যায়। গ্লুকোমিটারে আঙুলে সুচ ফুটিয়ে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়া যায়। তবে এতে দুটি সমস্যা থেকে যায়।

এক. আঙুলে সুচ ফোটানো অনেকের কাছেই কষ্টদায়ক ও অস্বস্তিকর।

দুই. ঠিক ওই মুহূর্তের সুগারের মাত্রা জানা গেলেও দিনের বাকি সময় তা কেমন থাকে, বোঝা যায় না।

এ কারণে কোন বেলায় খাবারের আগে-পরে সুগার কত ছিল তা জানতে রোগীকে প্রায়ই দিনে চার বা ছয়বার আঙুল ফুটিয়ে পরীক্ষা করতে হয়। কাজটি বেশ ঝক্কির।

সিজিএমে বারবার আঙুল ফোটানোর দরকার পড়ে না। শরীরের যেকোনো জায়গার ত্বকে — সাধারণত বাহু বা পেটে — যন্ত্রটি বসানো হয়। কোমল পানীয়ের বোতলের মুখ বা ক্যাপের মতো দেখতে যন্ত্রটি থেকে সরু ও সূক্ষ্ম একটি তার ত্বকের ভেতরে খানিকটা ঢুকে থাকে।

গ্লুকোমিটারের মতো এটি রক্ত থেকে সুগার মাপে না। এতে থাকা সেন্সর সার্বক্ষণিকভাবে ত্বকের নিচের ইন্টারস্টিশিয়াল ফ্লুইড অর্থাৎ কোষের মধ্যকার তরল থেকে সুগার পরিমাপ করে এবং সেই তথ্য নিয়মিত স্মার্টফোনের অ্যাপে পাঠাতে থাকে।

চাইলে এই তথ্য প্রিয়জন, সন্তান বা চিকিৎসকের ফোনের সঙ্গেও যুক্ত করে দেওয়া যায়। ফলে বৃদ্ধ বাবা-মা বা স্বজনের সুগারের অবস্থা সন্তান কিংবা ব্যক্তিগত চিকিৎসক দূরে বসেও নজরে রাখতে পারেন।

কোন খাবার খাওয়ার পর সুগার বেড়েছিল, কখন কমে গিয়েছিল — তার পূর্ণ রেকর্ডও দেখতে পান রোগী ও তাঁর চিকিৎসক। এতে খাদ্যাভ্যাস বদলাতে সুবিধা হয়।

অনেক যন্ত্রে অ্যালার্মের ব্যবস্থা থাকে। ফলে সুগার অস্বাভাবিক বেশি বা কম হলেই অ্যালার্ম বেজে ওঠে, সতর্ক হতে পারেন রোগী বা তাঁর স্বজন।

সিজিএমের সেন্সর সাধারণত দুই সপ্তাহ পরপর বদলাতে হয়। ইমপ্ল্যান্ট করা যায় এমন যন্ত্রও আছে, যা মাসের পর মাস একইভাবে রাখা যায়। টেপ দিয়ে ঢেকে আটকে রাখলে গোসল বা পোশাক পাল্টানোর সময়ও স্থানচ্যুতির ঝুঁকি থাকে না।

বাংলাদেশেও এখন যন্ত্রটি পাওয়া যাচ্ছে। বারবার সুই ফুটিয়ে রক্ত বের করে গ্লুকোমিটারে পরীক্ষার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই ঝুঁকছেন সিজিএমের দিকে।

সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/7xhu8kz9j9

বিষয়:: স্বাস্থ্য · প্রযুক্তি · ডায়াবেটিস

https://www.news.rayenda.com/bn/health/myq6nm

আগের