আন্তর্জাতিক
নেপালে কেন বারবার বিপর্যয় নেমে আসছে, হিমালয়ের বুকেই কি বিপদ লুকিয়ে আছে
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৯:০০ সকাল
গত বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটকোশি নদী দিয়ে ধেয়ে আসে ভয়াবহ এক পানির ঢল। তিব্বত আর চীন সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলো তছনছ হয়ে যায় মুহূর্তেই। ভাটির দিকে নেমে সেই ঢল গিয়ে মেশে ত্রিশূলীতে। এই ভূমিধস আর আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়ে গেছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ; তাঁদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকই আট শতাধিক।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর হিসাব বলছে, ভোটকোশি থেকে ত্রিশূলী পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটারের এই নদী অববাহিকায় গত ১৩ মাসেই এটি দ্বিতীয় বড় বিধ্বংসী বন্যা। ভৌগোলিক অবস্থান আর ভূতাত্ত্বিক গড়ন—দুই মিলিয়ে নেপাল যে দুনিয়ার অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ জনপদ, ঘটনাটি সেটাই আরেকবার মনে করিয়ে দিল।
ব্যাপারটা নিছক আবহাওয়ার খেয়াল নয়। এর পেছনে কাজ করছে দুটি বড় কারণ। প্রথমত, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে হিমালয়ের তাপমাত্রা যত বাড়ছে, হিমবাহ গলে ভঙ্গুর নানা জায়গায় তত জমছে বিপুল পানি। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় আর ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেটের ধাক্কাধাক্কিতে এখানকার পাহাড়গুলো এখনো নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে, পাল্টে যাচ্ছে তাদের গড়ন।
আসলে কী ঘটেছিল
বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে এ পর্যন্ত মোটামুটি তিন রকম ব্যাখ্যা এসেছে। তবে গোড়ার সূত্রটি সবগুলোতেই এক।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে একটি ভূমিকম্প থেকেই শুরু হয় বড় ধরনের ভূমিধস, আর তাতেই নদীর পথ পুরোপুরি আটকে যায়। জমে থাকা পানির চাপে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ একসময় ভেঙে পড়ে, নেমে আসে বিপর্যয়।
ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) যন্ত্রে তিব্বতের গোসাইকুন্ডা থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি কম্পন ধরা পড়েছিল। তবে সংস্থাটি পরে জানায়, ওটা আদতে ভূকম্পন ছিল না; বিশাল এক ভূমিধসের ধাক্কাতেই তৈরি হয়েছিল সেই কম্পন।
বিজ্ঞানীদের দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিও একই দিকে আঙুল তোলে। আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) বিজ্ঞানী শাশ্বত সান্যাল সিএনএনকে বলেছেন, বন্যার গোড়াপত্তন ভোটকোশির শাখা নদী লেন্দে খোলায়। হিমবাহ থেকে বিরাট বরফ-পাথরের স্তূপ ভেঙে পড়ে নদীটির পথ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়। জমে ওঠা পানির চাপে সেই বাধা ভাঙতেই জন্ম নেয় প্রবল স্রোত, যা শেষমেশ আকস্মিক বন্যার চেহারা নেয়।
নেপাল ও চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে প্রায় একই কথা বলেছেন কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, হিমবাহ বিশেষজ্ঞ রিজান ভক্ত কায়স্থ। তাঁর মনে করিয়ে দেওয়া তথ্য—গত বছরও হুবহু এভাবেই লেন্দে খোলার পথ আটকে বন্যা হয়েছিল।
নদীটির উজানে হিমবাহ এলাকায় পানির চলাচলে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছিল কি না, সেটি বুঝতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ২৪ আগস্টের স্যাটেলাইট ছবি। দুর্যোগের আগে-পরের ছবিতে সেখানে হঠাৎ বড় বড় স্রোত জেগে উঠতে দেখা গেছে।
তিন ব্যাখ্যা মিলিয়ে যা দাঁড়ায় তা হলো—হিমালয়ের একটি পাহাড়ি নদীর পথ কোনোভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর সেখানে আটকে পড়া বিপুল পানিই একসময় প্রলয় হয়ে নেমে এসেছে।
বিপর্যয়ের সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্যটি ধরা পড়েছে চীন-নেপাল সীমান্তের রসুয়াগাড়ী ক্রসিংয়ে। প্রধান সীমান্ত গেটমুখী মূল সেতুটি পানির তোড়ে পুরো ভেসে গেছে; সেখানে বহু প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অঞ্চল অবশ্য এর আগেও একাধিকবার এমন বড় দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছে।
শত শত বছরের পুনরাবৃত্তি
হিমালয়ের এই এলাকায় হিমবাহ-হ্রদের বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা কিংবা অভ্যন্তরীণ সুনামির ঘটনা নতুন নয়। শত শত বছর ধরে এমন কত প্রলয় যে দেখেছে নেপাল! আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থা আইসিআইএমওডির সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, ২০০০ সালের পর থেকে হিন্দুকুশ পর্বতমালায় হিমবাহের বরফ গলার গতি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এর ফলে এসব হিমবাহ ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর ভাটিতে বাস করা প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন পড়েছেন চরম ঝুঁকিতে।
গত বছরও তিব্বতের উজানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে একই ধরনের বন্যা হয়েছিল। তারও অনেক আগে, ১৯৮১ সালের জুলাইয়ে হঠাৎ প্লাবিত হয়েছিল তিব্বতের ঝাংঝাংবো উপত্যকার একটি হিমবাহ হ্রদ। বিশ্বব্যাংকের পরের এক পর্যালোচনায় বলা হয়, সেবার বন্যার কারণটাই জানা যায়নি; বছর কয়েক বাদে চীনা বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় বিষয়টি খোলাসা হয়।
নেচার ও সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে ছাপা সেই গবেষণা বলছে, ১৯৮১ সালের ওই বন্যায় দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান, ধ্বংস হয়ে যায় ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে সান কোশি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। ১৯৬৪ ও ১৯৮৩ সালের বড় বন্যাগুলোর পেছনেও পাওয়া গেছে একই সূত্র।
নেপালে এমন বিপর্যয়ের ইতিহাস আরও পুরোনো। বিশ্বব্যাংকের হিসাব বলছে, অতীতে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে দেশটিতে বড় বন্যা হয়েছে সব মিলিয়ে ২৪ বার; এর ১৪টির জন্ম নেপালেই, বাকি ১০টির তিব্বতে।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, বছর সাড়ে চারশ আগে সেতি কোলা নদী অববাহিকায় ধসে পড়েছিল মাছাপুছরে হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ। সেই ধসে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা কোটি কোটি টন কাদা-পাথরে পোখরা উপত্যকা চাপা পড়ে গিয়েছিল ৫০ থেকে ৬০ মিটার গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচে।
গত বছর নেপাল-চীন সীমান্তের ঠিক এই জায়গাতেই হওয়া বন্যার কারণটিও শনাক্ত করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষকেরা। তাঁদের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, সীমান্ত থেকে ৩৫ কিলোমিটার উজানে ৫ হাজার ১৫০ মিটার উচ্চতার একটি হিমবাহ হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ আচমকা ভেঙে যাওয়াতেই ঘটেছিল ২০২৫ সালের ৮ জুলাইয়ের সেই বন্যা।
পাহাড়ের মাথায় টাইমবোমা
হিমবাহ গলে হিমালয়ের বুকে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে এমন শত শত হ্রদ। পাহাড়ের উপরিভাগে জমে থাকা এই বিপুল পানি যেন একেকটা টাইমবোমা—ভয়ানক আর অনিশ্চিত।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২০ সালের এক জরিপে দেখা যায়, কোশি, গণ্ডকী আর কর্ণালী অববাহিকা মিলিয়ে হিমবাহ হ্রদের সংখ্যা ৩ হাজার ৬২৪। এগুলোর ৪৭টিকে তখন ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল—যার ২৫টি তিব্বতে, ২১টি নেপালে, আর একটি ভারতে।
তবে এমন তালিকা দেখে আসন্ন দুর্যোগের আভাস পাওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। কারণ গলতে থাকা হিমবাহের ওপরে গজিয়ে ওঠা এই অস্থায়ী হ্রদগুলো মাস কয়েকের মধ্যেই ফুলেফেঁপে ওঠে, তারপর হঠাৎ ফেটে পড়ে। ফলে তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করতে করতেই সেটি বাতিল কাগজে পরিণত হয়। যেমন ২০২৫ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার জন্য দায়ী হ্রদটি বিজ্ঞানীদের তালিকায় ছিলই না।
চীন কি সতর্ক করেছিল
হিমালয়ে বড় বন্যা হলেই প্রশ্নটা ফিরে আসে—নেপাল কেন আগেভাগে কোনো আভাস পায় না?
২০২৫ সালের জুলাইয়ের বিপর্যয়ের পর নেপালের জলবায়ু ও আবহাওয়া বিভাগের মহাপরিচালক খোলাখুলিই বলেছিলেন, তিব্বতের জলবায়ু বা হিমবাহ নিয়ে তথ্য পাওয়ার মতো কার্যকর দ্বিপক্ষীয় কোনো ব্যবস্থাই নেপালের হাতে নেই। চীন মাঝেমধ্যে ভারী বৃষ্টির আগাম বার্তা পাঠায় বটে, কিন্তু হিমবাহ হ্রদ ফেটে পড়া তো কেবল বৃষ্টির হিসাব মেনে ঘটে না।
নেপালি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, গত বছরের আকস্মিক বন্যার সময়ও কোনো আবহাওয়া বা বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে তাঁদের কাছে সতর্কবার্তা আসেনি। পানি নেপালে ঢোকার ঘণ্টাখানেক আগে প্রথম খবরটি তাঁরা পেয়েছিলেন—তা-ও পূর্বাভাস সংস্থার কাছ থেকে নয়, সীমান্তে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে।
ওই বন্যার পর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজের সিদ্ধান্ত নেয় নেপাল সরকার। এই বাড়তে থাকা ঝুঁকি সামলাতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের অনুদানও অনুমোদন করে।
তবু সীমান্তজুড়ে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠানোর মতো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এখনো দাঁড়ায়নি। চলতি সপ্তাহের বিপর্যয়ই তার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য।
প্লেটের ধাক্কা, চিরস্থায়ী সংকট
বরফ গলা, হ্রদ ফেটে পড়া কিংবা আগাম সতর্কবার্তার অভাব—এগুলোকে সাময়িক সমস্যা মনে হতে পারে। কিন্তু এসবের বাইরে নেপালের এমন এক ভৌগোলিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা আছে, যা চিরস্থায়ী।
দেশটির অবস্থান ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেটের চরম সংঘাত-অঞ্চলের ঠিক ওপরে। বিশাল এই দুই প্লেট প্রতিবছর ২০ থেকে ২১ মিলিমিটার হারে পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে ধাক্কা খাচ্ছে।
কোটি পাঁচেক বছর আগে এই দুইয়ের মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষেই হারিয়ে গিয়েছিল প্রাচীন টেথিস মহাসাগর, আর সেখান থেকেই জন্ম হিমালয় পর্বতমালার। সেবার পৃথিবীর ভূত্বক তীব্র শক্তিতে ভাঁজ হয়ে উঠে এসে তৈরি করেছিল এই বিশাল পর্বতমালা ও তার শৃঙ্গগুলো।
ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, কোটি বছর আগে শুরু হওয়া সেই সংঘর্ষে আজও ছেদ পড়েনি; গতি ধীর, কিন্তু চলছেই। এই সচল ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার জন্যই হিমালয়কে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে তরুণ ও দ্রুত বেড়ে ওঠা পর্বতমালা।
নিরন্তর এই ধাক্কায় হিমালয় এখনো বছরে গড়ে ৫ মিলিমিটার করে উঁচু হচ্ছে। আর এই চিরস্থায়ী পরিবর্তনের জেরেই ভয়াবহ ভূমিকম্প আর ভূমিধসের মুখে বারবার পড়তে হচ্ছে নেপালকে।
এখন আর বন্যা বা ভূমিধসের জন্য বড় ভূমিকম্পেরও দরকার হয় না দেশটিতে; মাঝারি কিংবা মৃদু কম্পনই যথেষ্ট। ২০১৫ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের ধাক্কায় এ অঞ্চলের পাহাড়ি ঢালগুলো আগে থেকেই আলগা, ভঙ্গুর হয়ে আছে। সামান্য ঝাঁকুনিতেই তাই খসে পড়ছে মাটি আর পাথর।
বুধবারের ঘটনাটাই তার তাজা উদাহরণ। সেদিন সত্যিকারের কোনো ভূমিকম্প হয়নি; কেবল একটি বড় ভূমিধসের অভ্যন্তরীণ কম্পনই পাহাড়ের গোটা একটা ঢাল নামিয়ে দিতে যথেষ্ট হয়েছে। সেই ধসের মাটি-পাথরে নদীর পথ পুরো বন্ধ হয়ে গিয়ে জন্ম নেয় প্রলয়ঙ্করী ঢল।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু এই সীমান্ত-পাহাড়ি অঞ্চলের ঠিক দক্ষিণে। বুধবারের বন্যার পানি আর ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা কোটি কোটি টন কাদা-পাথর নদী উপত্যকা ধরে ছুটে যায় কাঠমান্ডু থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের বিদুরের মতো জনপদগুলোর দিকে।
ভুল জায়গায় অবকাঠামো
নেপালের এই সর্বনাশের পেছনে শেষ যে কারণটি, তা দেশটির নির্মাণশৈলী আর বেঠিক জায়গায় গড়ে তোলা অবকাঠামো। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, চীন-নেপাল বাণিজ্য করিডর তথা মহাসড়ক বানানোর সময় হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণের এই সম্ভাব্য ঝুঁকিকে আমলেই নেওয়া হয়নি। নদীর অববাহিকা আর প্লাবনভূমি ঘেঁষেই বসানো হয়েছে বড় বড় স্থলবন্দর ও কাস্টম অফিস।
চেংডুর চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের গবেষক নীতেশ খাড়কা ও তাঁর দলের যৌথ এক গবেষণা বলছে, হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যা হলে তার আঁচ লাগতে পারে চীন ও নেপাল—দুই দেশেই। ঝুঁকিতে পড়তে পারে ১০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চীন-নেপাল মহাসড়ক, ১০৩টি সেতু, দুটি বড় স্থলবন্দর আর দুই দেশ মিলিয়ে ৩ হাজার ৩০১টি স্থাপনা।
বাস্তবেও তার প্রমাণ মিলেছে। রসুয়াগাড়ী ক্রসিংয়ের কাছের তিমুরে কাস্টমস ফাঁড়িটি গত ১৩ মাসেই দুবার পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। বুধবারের এই আকস্মিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ভারতের কৈলাস মানস সরোবর-যাত্রার পুণ্যার্থীসহ বহু পর্যটক।
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/world/asia/trm7ebwl5f
বিষয়:: নেপাল · দুর্যোগ · হিমালয় · জলবায়ু
https://www.news.rayenda.com/bn/international/ur3tkk