বিনোদন
‘বিতর্ক উসকে দিতে ইনফ্লুয়েন্সারদের টাকা দেওয়া হয়েছিল’
নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ রাত
নোরা ফাতেহি বলেছেন, ‘সারকে চুনর তেরি সারকে’ গানটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তা তাঁকে অবাক করেনি। বরং তাঁর দাবি, বিতর্ককে আরও উসকে দিতে কিছু ইনফ্লুয়েন্সারকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে এই অভিনেত্রী-গায়িকা স্পষ্ট করেছেন, গানটির হিন্দি সংস্করণে তিনি কখনো অনুমোদন দেননি।
‘ড্রিম উইথ ড. শিন’ পডকাস্টে নোরা জানান, গানটি প্রকাশের পর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে তা তিনি আগেই আঁচ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘প্রতিটি ইনফ্লুয়েন্সারের স্ক্রিপ্ট’ তাঁর জানা; এমনকি কারা তাঁদের নিয়োগ করেছেন আর কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তা-ও জানেন বলে দাবি করেন তিনি।
নোরা বলেন, ‘আমি জানি কে তোমাকে নিয়োগ করেছে, কখন করেছে এবং কত টাকা দিয়েছে। যে-ই এর পেছনে ছিল, সে এই সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে।’
তাঁর মতে, গানে অশালীনভাবে নারীর শরীর প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হবে — এমনটা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। তাই সমালোচনা শুরু হওয়ার পরও আতঙ্কিত হননি।
‘আমি আতঙ্কিত ছিলাম না, ভয়ও পাইনি। আমি তিন দিন শুটিং করছিলাম। কিছুই জানতাম না। এরপর হঠাৎ সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল,’ বলেন তিনি।
পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে পরে একটি ভিডিও বার্তাও দিতে হয় তাঁকে। কারণ তাঁর ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াচ্ছিল এমন অনেক বক্তব্য, যেগুলো সত্যি নয়। নীরব থাকলে মানুষ তাঁর অবস্থান ভুল বুঝতে পারে — এই আশঙ্কা থেকেই প্রকাশ্যে কথা বলেন তিনি।
‘আমি জানি না হিন্দি সংস্করণটি কোথা থেকে এল’
নোরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে তিনি গানটির কন্নড় সংস্করণে অভিনয় করেছিলেন। তখন সেটি ছিল বড় একটি ছবির অংশ, সঙ্গে ছিলেন সঞ্জয় দত্ত — তাই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিলেন তিনি।
‘আমি তিন বছর আগে কন্নড় ভাষায় গানটির শুটিং করেছিলাম। বড় একটি ছবির অংশ হওয়ায় আমি রাজি হয়েছিলাম। তার সঙ্গে সঞ্জয় দত্তও ছিলেন—কে না বলবে? আমি ভেবেছিলাম এটি “নায়ক নেহি খলনায়ক হুঁ ম্যায়”-এর মতো একটি রিমেক,’ বলেন তিনি।
কন্নড় ভাষা না জানায় তখন গানের বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মাতারা যা বলেছিলেন, তার ওপরই ভরসা করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে হিন্দিতে গানটি তৈরির সময় তাঁর কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
‘তারা এখন যা করেছে—হিন্দিতে ডাবিং, নতুন গানের কথা—এসবের জন্য আমার কোনো অনুমতি বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না,’ বলেন নোরা।
গানটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও কিছু বিষয় তাঁর নজরে আসে। সেখানে লিরিক্যাল ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছিল তাঁর কিছু অপ্রশংসনীয় ছবি; পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল তাঁর ও সঞ্জয় দত্তের ছবিও। তাঁর কথায়, ‘অনুষ্ঠানে এসব দেখে আমি খুব বিরক্ত হয়েছিলাম। তবে নিজেকে শান্ত রেখেছিলাম।’
পরে হিন্দি সংস্করণটি দেখার পর আশঙ্কা আরও বাড়ে তাঁর। নির্মাতাদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
‘আমি পরিচালককে বলেছিলাম, এটা ঠিক হচ্ছে না। এরপর আমি নিজেকে এই প্রকল্প থেকে দূরে সরিয়ে নিই। কোথাও গানটির প্রচার করিনি। পরিচালককে বলেছিলাম, এখানে আমার ভাবমূর্তি ও সুনামের বিষয় জড়িত,’ বলেন তিনি।
‘শিল্পীদের হাতে ক্ষমতা খুব কম’
নোরা আরও বলেন, বিনোদনশিল্পে একজন অভিনয়শিল্পীর নিজের কাজের ওপর সব সময় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ‘আমরা শিল্পীরা খুব বেশি ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণ রাখি না। সৌভাগ্যবশত বলিউডে অনেকেই আমার কাজকে সম্মান করেছেন। কিন্তু কিছু ইন্ডাস্ট্রি আছে, যেখানে আমার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না,’ বলেন তিনি।
তবে বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর গানটি সরিয়ে নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি — ‘প্রতিক্রিয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তাদের গানটি সরিয়ে নিতে হয়েছে। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
আগে প্রকাশ করা ভিডিও বার্তার ক্যাপশনেও তিনি লিখেছিলেন, কেউ যেন না ভাবেন যে তিনি গানটিকে সমর্থন করেছেন। বিতর্কের পর নির্মাতারা সেটি সরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করে সবাইকে গানটির ভিডিও বা অংশবিশেষ শেয়ার না করার অনুরোধও জানান তিনি; তাঁর মতে, এতে গানটি অপ্রয়োজনীয় প্রচারই পাবে।
তাঁর আরও অভিযোগ, কেউ কেউ এই বিতর্ককে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি আবারও দাবি করেন — হিন্দি গানটি সম্পর্কে তিনি জানতেন না, এর জন্য শুটিংও করেননি, ছবি ব্যবহারের অনুমতিও দেননি।
অশ্লীলতার অভিযোগে মামলা
ইউটিউবে প্রকাশের পর গানটি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে; পরে এ নিয়ে একটি অভিযোগও করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, গানটির কথায় রয়েছে অত্যন্ত অশ্লীল, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও আপত্তিকর অভিব্যক্তি; দৃশ্যায়ন ও নাচের অংশও আপত্তিকর এবং তা জনসমক্ষে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গানটির কিছু কথা প্রকাশ্যে প্রচারের অনুপযুক্ত; অপ্রাপ্তবয়স্করাও সহজে এসব কনটেন্ট দেখতে পারায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক।
অভিযোগে নাম এসেছে গানটির সঙ্গে যুক্ত গীতিকার রকিব আলম, পরিচালক প্রেম, সুরকার অর্জুন জনয়া ও গায়িকা মাংলিরও। অভিযোগকারীর দাবি, এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচারে প্রযোজ্য হতে পারে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৪ ধারা, শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন ধারা। দিল্লি পুলিশের সাইবার সেলেও এ নিয়ে আলাদা ফৌজদারি অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর গান
গানটি কন্নড় ভাষার অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ ছবির অংশ। প্রেম পরিচালিত ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ধ্রুব সারজা, সঞ্জয় দত্ত, শিল্পা শেঠি ও রেশমা নানাইয়া। ১৯৭০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবিটির গল্প কালী নামের এক ছোটখাটো অপরাধীকে ঘিরে, যে ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে অপরাধজগতে। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ৩০ এপ্রিল ২০২৬।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে
সূত্র: প্রথম আলো — https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/aitn0kkopw
বিষয়:: বলিউড · সোশ্যাল মিডিয়া · নোরা
https://www.news.rayenda.com/bn/entertainment/ya25an