অনলাইনে জুয়া খেলার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাধিক সাইটের ‘অ্যাডমিন’ ও ‘সুপার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

আটক ব্যক্তির নাম অহিদুর রহমান (৪৩)। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে র‍্যাব-৩। বুধবার র‍্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অনলাইন জুয়ায় প্রলুব্ধ করতেন অহিদুর। এভাবে তাঁদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা, আর সেই টাকায় কিনেছেন জমি ও গাড়ি পর্যন্ত।

সংস্থাটির ভাষ্য, তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে থাকা ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা, নগদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, দুটি সিম কার্ড ও একটি মোটরসাইকেল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অহিদুর দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইট ব্যবহার ও প্রচারের কথা স্বীকার করেছেন। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সাধারণ মানুষকে জুয়ায় প্রলুব্ধ করতেন তিনি। তাঁর মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের পুরোনো কথোপকথন পর্যালোচনা করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে জুয়ার সাইটের প্রচার ও অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। জুয়াড়ি চক্রের একজন সুপার এজেন্ট হিসেবেই কাজ করতেন তিনি।

র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জুয়ার গ্রাহক সংগ্রহ করতেন অহিদুর, সেসব অ্যাকাউন্ট দিয়েই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর এই চক্রে আরও ১০ থেকে ১২ জন যুক্ত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি জানায়, চক্রের সদস্যরা স্মার্টফোন ও নানা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নিয়োগ করা এজেন্টদের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করতেন। গ্রাহকদের কাছে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো জুয়ার সাইটের নিজস্ব কারেন্সি, আর এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই টাকা সংগ্রহ করতেন এজেন্টরা। জুয়ার সাইট চালিয়ে আয় করা অর্থে অহিদুর ও তাঁর সহযোগীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, গাড়িসহ অবৈধ সম্পদ গড়েছেন।

অহিদুরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের আটকের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন।