বাগেরহাটের রামপালে মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

রোববার বিকেলে রামপালের রমজাইপুর এলাকায় ভাঙনকবলিত অংশ ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, নৌ চ্যানেলের রামপাল অংশে রমজাইপুর গ্রামের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এখনই ভাঙন প্রতিরোধ করা দরকার।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য, ওই এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে পাইলিং বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন। চলমান ড্রেজিংয়ের প্রভাবেও কোথাও কোথাও ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নৌপথটির ব্যস্ততা — আন্তর্জাতিক রুট হওয়ায় সেখানে প্রতিনিয়ত নানা নৌযান ও জাহাজ চলাচল করে। নৌযানের ঢেউ এবং জোয়ার-ভাটার আঘাতেও তীর ভাঙছে।

তিনি বলেন, পাইলিং বাঁধ নির্মাণ করা গেলে ভাঙন অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হবে। মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার কাজও এগোচ্ছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিরাজ মোল্লা।

নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের রামপাল অংশে ভাঙনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি, তবে মোংলা অংশেও ভাঙন রয়েছে। এই মুহূর্তে চ্যানেলের পাঁচ থেকে ছয়টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে।

তাঁর ভাষ্য, তিনটি পয়েন্টে ভাঙন রোধের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যেসব জায়গায় ভাঙন বড় আকার নিয়েছে, সেখানে স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন করে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।