অভিযোগটা প্রায়ই শোনা যায় — এত দামি সুগন্ধি ব্যবহার করেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘ্রাণ মিলিয়ে যায়। আসলে ঘ্রাণ কতক্ষণ টিকবে, তা কেবল সুগন্ধির মানের ওপর নির্ভর করে না। ত্বকের অবস্থা, সুগন্ধির ঘনত্ব এবং ব্যবহারের কৌশল — সব মিলিয়েই ঠিক হয় এর স্থায়িত্ব।

আর্দ্র ত্বকে ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকে সুগন্ধি বেশিক্ষণ টেকে না। গোসলের পর ত্বক কিছুটা আর্দ্র থাকা অবস্থায় ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল মেলে।

আগে ডিওডোরেন্ট, পরে সুগন্ধি। ঘর্মাক্ত শরীরে সুগন্ধি দিলে ঘ্রাণ দ্রুত উবে যায়। তাই ঘামের গন্ধ দূর করতে প্রথমে ডিওডোরেন্ট, এরপর সুগন্ধি ব্যবহার করা উচিত।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, তবে ঘ্রাণহীন। সুগন্ধি দেওয়ার আগে ময়েশ্চারাইজার বা লোশন লাগালে ঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী হয়। খেয়াল রাখতে হবে সেটি যেন ঘ্রাণহীন হয় — নইলে দুই ঘ্রাণ মিলে এমন কিছু তৈরি হতে পারে, যা আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বেমানান।

‘পালস পয়েন্টে’ দিন। কবজি, কানের পেছনের অংশ, কনুইয়ের ভেতরের দিক — এসব জায়গায় ব্যবহার করলে সুফল মেলে দীর্ঘক্ষণ। কারণ শরীরের এসব অংশের তাপ তুলনামূলক বেশি, আর সেই তাপই ঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয় বাকি অংশে।

দূর থেকে স্প্রে করুন। একেবারে কাছ থেকে নয়, ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার দূর থেকে স্প্রে করা ভালো। এতে ঘ্রাণ এক জায়গায় জমাট না বেঁধে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

কাপড়ে নয়, ত্বকে। কাপড়ে সরাসরি স্প্রে করলে ঘ্রাণ দ্রুত মিলিয়ে যেতে পারে। শরীরে ব্যবহার করলেই বেশিক্ষণ থাকে।

একসঙ্গে বেশি নয়। একবারে বেশি ব্যবহার করলে ঘ্রাণের তীব্রতা এত বেড়ে যায় যে অনেক সময় তা আর সুন্দর থাকে না। পাশাপাশি আশপাশের মানুষের জন্যও তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

কবজি ঘষবেন না। কবজিতে সুগন্ধি দিলে ঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী হয় ঠিকই, তবে দেওয়ার পরপরই দুই কবজি ঘষে নেওয়া চলবে না। তাতে সুগন্ধির অণুর গঠন নষ্ট হয়ে ঘ্রাণ দ্রুত উবে যেতে পারে।

সূত্র: লক্সিটান