খেলা

ফুটবল ক্লাবের মালিকদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী কে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ৩:০০ রাত
ফুটবল ক্লাবের মালিকদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী কে
ছবি: প্রথম আলো

কারও হাতে বিলাসপণ্যের বিশাল সাম্রাজ্য, কেউ সমুদ্রপথে পণ্য টানার ব্যবসায় বিলিয়নিয়ার, কারও পরিচয় ওয়াল স্ট্রিটের ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে। পেশা আলাদা, দেশ আলাদা, ব্যবসার ধরনও আলাদা—কিন্তু একটা জায়গায় এসে এই মানুষগুলো মিলে যান। তাঁরা সবাই ফুটবল ক্লাবের মালিক।

মাঠে দৌড়ান খেলোয়াড়েরা, গ্যালারিতে গলা ফাটান সমর্থকেরা। আর এসবের বাইরে, বোর্ডরুমের বন্ধ দরজার ওপাশে সংখ্যার হিসাব মেলান এই ধনকুবেরেরা। তাঁদের কাছে ফুটবল নিছক নব্বই মিনিটের খেলা নয়, বিরাট এক অর্থনীতির নাম। সাময়িকী ফোর্বস সম্প্রতি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ধনী ১০ ক্লাব-মালিকের তালিকা প্রকাশ করেছে। দেখে নেওয়া যাক, কে কোথায়।

১. বার্নার আরনো

সম্পদ: ১৭,১০০ কোটি ডলার
ক্লাব: প্যারিস এফসি (ফ্রান্স)

বিলাসপণ্যের দুনিয়ায় এলভিএমএইচ যে সাম্রাজ্যের নাম, তার সিংহাসনে বসে আছেন বার্নার আরনো। সেই আরনোই এবার প্যারিসের ফুটবল মানচিত্রে নিজের নাম লেখাতে চাইছেন। ফরাসি রাজধানীর সবচেয়ে চেনা ক্লাব অবশ্য পিএসজি। ইউরোপ-জয়ী দলটির দাপট আর জৌলুশের ছায়াতেই চুপচাপ টিকে আছে প্যারিস এফসি। সেই ক্লাবটিকেই নতুন করে গড়ে তুলতে চান আরনো। তাঁর আশা, এলভিএমএইচ ব্র্যান্ড যেমন বিশ্বজুড়ে পরিচিত, একদিন হয়তো এই ক্লাবটিও ফুটবলের আলোচিত নাম হয়ে উঠবে।

২. ইদান ওফার

সম্পদ: ৩,৪৬০ কোটি ডলার
ক্লাব: এফসি ফামালিকাউ (পর্তুগাল) ও আতলেতিকো মাদ্রিদ (স্পেন)

সমুদ্রে ভাসা বিশাল জাহাজ আর আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের ব্যবসা—ইস্টার্ন প্যাসিফিক শিপিং থেকে আসা বিপুল টাকা ফুটবলে ঢালছেন ইসরায়েলি শিপিং টাইকুন ইদান ওফার। পর্তুগালের ক্লাব এফসি ফামালিকাউয়ের বেশির ভাগ শেয়ার তাঁর হাতে। পাশাপাশি স্প্যানিশ পরাশক্তি আতলেতিকো মাদ্রিদেরও বড় অংশীদার এই ধনকুবের।

৩. ফ্রাঁসোয়া পিনো

সম্পদ: ২,৯৫০ কোটি ডলার
ক্লাব: স্তাদ রেনে (ফ্রান্স)

গুচি কিংবা ইভ সাঁ লরঁ—বিশ্বখ্যাত এসব ব্র্যান্ডের পেছনে যে ফ্যাশন জায়ান্ট ‘কেরিং’, তার প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঁসোয়া পিনো। ৮৯ বছর বয়সী এই ফরাসি ব্যবসায়ী বহু বছর ধরে আগলে রেখেছেন নিজের শহরের ক্লাব স্তাদ রেনেকে। ফরাসি লিগে দলটি এখন নিয়মিত মুখ, মাঠেও যেন তাঁর ব্র্যান্ডের মতোই একটা আলাদা পরিচয় তৈরি হচ্ছে।

৪. ডেভিড টেপার

সম্পদ: ২,৩৭০ কোটি ডলার
ক্লাব: শার্লট এফসি (যুক্তরাষ্ট্র)

ওয়াল স্ট্রিটের হেজ ফান্ড ও বিনিয়োগ সংস্থা ‘অ্যাপালুসা ম্যানেজমেন্ট’ গড়েছেন ডেভিড টেপার। তাঁর মূল মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএলের দিকেই, তবে ফুটবলকেও দূরে ঠেলে দেননি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল শার্লট এফসিকে নিজের ক্রীড়া সাম্রাজ্যের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী এই মার্কিন ধনকুবের।

৫. স্ট্যানলি ক্রোংকি

সম্পদ: ২,২২০ কোটি ডলার
ক্লাব: আর্সেনাল (ইংল্যান্ড) ও কলোরাডো র‍্যাপিডস (যুক্তরাষ্ট্র)

আবাসন আর ক্রীড়া-বিনোদন—দুই ব্যবসা মিলিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছেন মার্কিন ব্যবসায়ী স্ট্যানলি ক্রোংকি। তাঁর প্রতিষ্ঠান ক্রোংকি স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের অধীনেই আছে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনালের পুরুষ ও নারী দল, সঙ্গে এমএলএসের কলোরাডো র‍্যাপিডস। দীর্ঘ অপেক্ষার পর লিগ শিরোপা জিতে আর্সেনাল আবার জেগে উঠেছে—আর সেই সাফল্যের পেছনে আছে এই আমেরিকানের হিসাবি পরিকল্পনা।

৬. আর. বুদি হার্তোনো ও মাইকেল হার্তোনো

সম্পদ: ৩,৮৫০ কোটি ডলার (যৌথ)
ক্লাব: কোমো ১৯০৭ (ইতালি)

ইতালির চতুর্থ বিভাগ থেকে উঠে আসা কোমো ১৯০৭ যখন সিরি আ-র শিরোপার দাবিদার হয়ে ওঠে, চ্যাম্পিয়নস লিগেও জায়গা করে নেয়, তখন নেপথ্যের দুই কারিগরকে চিনে নিতেই হয়। তাঁরা ইন্দোনেশিয়ার দুই ভাই—আর. বুদি হার্তোনো (১,৯৬০ কোটি ডলার) ও মাইকেল হার্তোনো (১,৮৯০ কোটি ডলার)। তামাক ব্যবসা ‘ডিজারুম’ আর ব্যাংক সেন্ট্রাল এশিয়ার বড় শেয়ারই তাঁদের ধনকুবের বানিয়েছে। সেই টাকাতেই ইতালিয়ান ফুটবলে নিজেদের রূপকথা লিখে চলেছেন দুজন।

৭. ফিলিপ আনশুৎস

সম্পদ: ১,৯৪০ কোটি ডলার
ক্লাব: এলএ গ্যালাক্সি (যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে এই নামটা আলাদা মর্যাদা পায়। ৮৬ বছর বয়সী ফিলিপ আনশুৎসের ব্যবসা জ্বালানি এবং তেল-গ্যাস ঘিরে। বিনোদন ও কনসার্ট ভেন্যু পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘এইজি’-রও প্রধান তিনি। তাঁকে সম্মান জানাতেই এমএলএস চ্যাম্পিয়ন ট্রফির নাম রাখা হয়েছে ফিলিপ এফ. আনশুৎস ট্রফি। তাঁর মালিকানার এলএ গ্যালাক্সি এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলেও পরিচিত এক নাম।

৮. অ্যান্ডার্স হোলচ পোভলসেন

সম্পদ: ১,৬৯০ কোটি ডলার
ক্লাব: এফসি মিতিউলান (ডেনমার্ক)

ফ্যাশন রিটেইল জায়ান্ট ‘বেস্টসেলার’-এর মালিক অ্যান্ডার্স হোলচ পোভলসেন। ২০২৩ সালে ডেনিশ ক্লাব এফসি মিতিউলানের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার কেনার পর দলটির চেহারাই যেন পাল্টে যায়। খুচরা ব্যবসার মুনাফা মাঠে ঢেলে ২০২৪ সালে দলকে লিগ চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ছেড়েছেন এই ধনকুবের।

৯. মালুক

সম্পদ: ১,৬১০ কোটি ডলার
ক্লাব: স্পোর্টিং কানসাস সিটি (যুক্তরাষ্ট্র)

সম্পদ পরিকল্পনার (ওয়েলথ প্ল্যানিং) ব্যবসাই তাঁকে বিলিয়নিয়ার বানিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়েই ফুটবলে পা রেখেছেন তিনি। কিছুদিন আগে মেজর লিগ সকারের ক্লাব স্পোর্টিং কানসাস সিটির সিংহভাগ মালিকানা কিনে নিয়েছেন। দলে বড় তারকা নেই, বাজেটও আকাশছোঁয়া নয়। তবু মেপে মেপে বিনিয়োগ করে দলটিকে প্রতিযোগিতার মধ্যে রেখে দিয়েছেন মালুক।

১০. শাহিদ খান

সম্পদ: ১,৫০০ কোটি ডলার
ক্লাব: ফুলহাম (ইংল্যান্ড)

গাড়ি নির্মাতাদের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী অটো-জায়ান্ট ‘ফ্লেক্স-এন-গেট’ গড়েছেন ৭৫ বছর বয়সী পাকিস্তানি-আমেরিকান ধনকুবের শাহিদ খান। যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল দল জ্যাকসনভিল জাগুয়ার্সের পাশাপাশি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফুলহামের একক মালিকও তিনি। ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগের বড় শক্তি না হলেও, এখন সেখানে পরিচিত একটি মুখ।

সূত্র: প্রথম আলো

৪ বার দেখা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আপনার মতামত সম্পাদক অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর