জাতীয়

প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৫ সকাল
প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা কারাগারে
ছবি: প্রথম আলো

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ছিল।

বুধবার দুপুরে শুনানি শেষে আদেশটি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ। বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশের গাড়িতে করে বিদিশাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। মামলার শুনানি শুরু হয় বিকেল চারটার দিকে।

শুনানিতে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী আতিকুর রহমান। আদালতকে তিনি বলেন, ‘আমরা জামিন চাই। আসামি এই মামলা সম্পর্কে জানতেন না।’

জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খানের বক্তব্য, আসামি খুবই সুকৌশলে ছলচাতুরী করেছেন।

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জামিন আবেদনে বলা হয়েছিল, গ্রেপ্তার আসামি স্বনামধন্য পরিবারের সন্তান এবং সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরপরাধ; মামলার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তাঁর একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে, যাকে দেখাশোনা করার মতো আর কেউ নেই — এ কারণে আপিলের শর্তে তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণা করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয় সাজা পরোয়ানা।

মামলাটি ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি করেছিলেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নিয়ে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আবদুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে সেই টাকা পরিশোধ করেন বাদী; এরপর দুজনের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

বায়নানামা অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল, আর ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দেওয়া হয় ৭২ লাখ টাকার একটি চেক। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার (ফেরত) হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপর নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়; টাকা কিংবা ফ্ল্যাট — কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। উল্টো দাবি জানালে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শেষে বাধ্য হয়ে ২০০৮ সালে মামলা করেন তিনি।

সূত্র: প্রথম আলো

৮ বার দেখা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

আপনার মতামত সম্পাদক অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

পরের খবর

অনলাইন জুয়ার ‘সুপার এজেন্ট’ আটক, কিনেছেন জমি-গাড়ি

অনলাইন জুয়ার ‘সুপার এজেন্ট’ আটক, কিনেছেন জমি-গাড়ি