সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ছিল।
বুধবার দুপুরে শুনানি শেষে আদেশটি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ। বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশের গাড়িতে করে বিদিশাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। মামলার শুনানি শুরু হয় বিকেল চারটার দিকে।
শুনানিতে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী আতিকুর রহমান। আদালতকে তিনি বলেন, ‘আমরা জামিন চাই। আসামি এই মামলা সম্পর্কে জানতেন না।’
জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খানের বক্তব্য, আসামি খুবই সুকৌশলে ছলচাতুরী করেছেন।
দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জামিন আবেদনে বলা হয়েছিল, গ্রেপ্তার আসামি স্বনামধন্য পরিবারের সন্তান এবং সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরপরাধ; মামলার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তাঁর একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে, যাকে দেখাশোনা করার মতো আর কেউ নেই — এ কারণে আপিলের শর্তে তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণা করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয় সাজা পরোয়ানা।
মামলাটি ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি করেছিলেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়।