পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দুমকী উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে ব্যবসায়ীদের স্থান দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এই কর্মসূচি হয়। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় একই অভিযোগে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল হয় দুমকী উপজেলায়। দুই উপজেলার পদবঞ্চিতরাই কমিটি বাতিল করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুই উপজেলার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মির্জাগঞ্জে সভাপতি করা হয় গাজী রাশেদ শামসকে, সাধারণ সম্পাদক গাজী আতাউর রহমানকে। আর দুমকীতে সভাপতি হন জাকির আলম (মিলন), সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম (রুবেল)। দুই উপজেলায় আরও আটজনকে বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটি দুটির অনুমোদন দিয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন (এমপি)। এক মাসের মধ্যে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। মির্জাগঞ্জের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া উপজেলা যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসন আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, নির্যাতিত হয়েছি। অথচ ব্যবসায়ী ও মাদক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে যদি পকেট কমিটি দেওয়া হয়, তা হলে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনীতি পঙ্গু হয়ে পড়বে।’

দুমকী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সরদারের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলার কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—দুই পদেই বসানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের। সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পায়রা সেতুর টোল প্লাজা চত্বরে অবস্থিত দ্য বিরতি সেন্টার নামের একটি রেস্তোরাঁর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিগত দিনে তিনি দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি বলেও দাবি তাঁর।

একই অভিযোগ করেন সদ্য সাবেক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন হাওলাদার (৪৮)। তিনি বলেন, সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে জাকির আলম নামের এক ব্যবসায়ীকে, যিনি যুবদল করলেও ব্যবসার কারণে বছরের ১২ মাসই ঢাকায় থাকেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা মৃত ইউনুচ আলী হাওলাদার ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত দুমকী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমিও বাবার সঙ্গে শৈশব থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত থেকে তৃণমূলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ছিলাম। মূলত পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ আদৌ সত্য নয়।’

ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করতে পারবেন না — দলে এমন কোনো নিয়ম নেই বলে জানান উপজেলা যুবদলের সভাপতি জাকির আলম। তিনি বলেন, ‘আমি সদ্য সাবেক কমিটির ৫ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। যাঁরা আজ কমিটিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়াচ্ছেন, বিগত দিনগুলোতে তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতির মাঠে ছিলাম। এখন তাঁরাই যদি নিজেদের পরিপক্ব এবং তৃণমূলের নেতা বা কর্মী মনে করেন, তাহলে আমার কী করার আছে?’